ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
"মুজিববর্ষের সফলতা, দুর্যোগ প্রস্তুতিতে গতিশীলতা"

রাজশাহীতে ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস’ উদযাপিত ।

নববানী

"মুজিববর্ষের সফলতা, দুর্যোগ প্রস্তুতিতে গতিশীলতা"- প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় রাজশাহীতে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) রাজশাহী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের সহযোগিতায় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহড়া, র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০ টায় রিভারভিউ কালেক্টরেট স্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে মহড়া এবং সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে র‌্যালি বের করা হয়। এরপর ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কল্যাণ চৌধুরী।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসনের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেস্নের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম, সিসিবিভিও এর প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী মোঃ নিবারুল ইসলাম, কারিতাসের জুনিয়ার প্রোগ্রাম অফিসার ফরিদুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কল্যাণ চৌধুরী বলেন, সিসমিক জোনে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে আছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে বাংলাদেশ অবস্থিত। এক সময়- ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাসে অনেক প্রাণহানি ঘটত। সত্তরের মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ লোক মারা যায়। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে আসে দুর্যোগ পূর্ববর্তী আপডেট। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়ার মতো আগাম তথ্য পাওয়ার ফলে ক্ষয়ক্ষতিও অনেক কম হচ্ছে। ফলে স্থায়ী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
দুর্যোগ মোকাবেলায় ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের গুরুত্ব উল্লেখ্য পূর্বক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কল্যাণ চৌধুরী বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ বহির্বিশ্বে রোল মডেল। আর এটা সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারণে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহনীয় হওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডেল্টা প্ল্যান দিয়েছেন। ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ সব দুর্যোগে সহনীয় রাষ্ট্র হয়ে যাবে। এছাড়াও দুর্যোগ হিসেবে ভূমিকম্প ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড প্রণয়ন করা হয়েছে। এই কোড অনুযায়ী সাড়ে ৭ রিখটার স্কেল স্ট্যান্ডার্ড ধরে এখনকার ভবনগুলো করতে হবে। স্থাপনাগুলো ভূমিকম্প সহনশীল কি না যাচাই-বাছাই করে বিল্ডিং কোড অনুযায়ী তৈরি করতে হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবেলায় জনসচেতনতা ও মাঠপর্যায়ে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলা বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি সংস্থাসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামীতেও যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলা ও এর ঝুঁকি কমাতে আমরা সক্ষম হব।’
দিবসটির গুরুত্ব উল্লেখ্য পূর্বক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কল্যাণ চৌধুরী আরও বলেন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙন, খরা, অগ্নিকাণ্ড, ভূমিধস ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ এদেশের জনজীবনে নিত্যদিনের ঘটনা। তাই আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে দিবসটি উদযাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আমাদের সংবিধানে রয়েছে- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য রাষ্ট্রের মানুষের নৈতিক অধিকার। এই অধিকার বাস্তবায়নের জন্য দুর্যোগ মোকাবেলায় বর্তমান সরকার কাজ করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ভোগান্তিতে ৮ লক্ষাধিক মানুষ

"মুজিববর্ষের সফলতা, দুর্যোগ প্রস্তুতিতে গতিশীলতা"

রাজশাহীতে ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস’ উদযাপিত ।

আপডেট সময় ০২:৫২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ মার্চ ২০২২
"মুজিববর্ষের সফলতা, দুর্যোগ প্রস্তুতিতে গতিশীলতা"- প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় রাজশাহীতে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) রাজশাহী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের সহযোগিতায় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহড়া, র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০ টায় রিভারভিউ কালেক্টরেট স্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে মহড়া এবং সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে র‌্যালি বের করা হয়। এরপর ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কল্যাণ চৌধুরী।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসনের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেস্নের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম, সিসিবিভিও এর প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী মোঃ নিবারুল ইসলাম, কারিতাসের জুনিয়ার প্রোগ্রাম অফিসার ফরিদুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কল্যাণ চৌধুরী বলেন, সিসমিক জোনে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে আছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে বাংলাদেশ অবস্থিত। এক সময়- ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাসে অনেক প্রাণহানি ঘটত। সত্তরের মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ লোক মারা যায়। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে আসে দুর্যোগ পূর্ববর্তী আপডেট। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়ার মতো আগাম তথ্য পাওয়ার ফলে ক্ষয়ক্ষতিও অনেক কম হচ্ছে। ফলে স্থায়ী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
দুর্যোগ মোকাবেলায় ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের গুরুত্ব উল্লেখ্য পূর্বক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কল্যাণ চৌধুরী বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ বহির্বিশ্বে রোল মডেল। আর এটা সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারণে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহনীয় হওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডেল্টা প্ল্যান দিয়েছেন। ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ সব দুর্যোগে সহনীয় রাষ্ট্র হয়ে যাবে। এছাড়াও দুর্যোগ হিসেবে ভূমিকম্প ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড প্রণয়ন করা হয়েছে। এই কোড অনুযায়ী সাড়ে ৭ রিখটার স্কেল স্ট্যান্ডার্ড ধরে এখনকার ভবনগুলো করতে হবে। স্থাপনাগুলো ভূমিকম্প সহনশীল কি না যাচাই-বাছাই করে বিল্ডিং কোড অনুযায়ী তৈরি করতে হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবেলায় জনসচেতনতা ও মাঠপর্যায়ে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলা বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি সংস্থাসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামীতেও যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলা ও এর ঝুঁকি কমাতে আমরা সক্ষম হব।’
দিবসটির গুরুত্ব উল্লেখ্য পূর্বক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কল্যাণ চৌধুরী আরও বলেন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙন, খরা, অগ্নিকাণ্ড, ভূমিধস ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ এদেশের জনজীবনে নিত্যদিনের ঘটনা। তাই আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে দিবসটি উদযাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আমাদের সংবিধানে রয়েছে- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য রাষ্ট্রের মানুষের নৈতিক অধিকার। এই অধিকার বাস্তবায়নের জন্য দুর্যোগ মোকাবেলায় বর্তমান সরকার কাজ করছেন।