ঢাকা ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভৈরবে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১৮, আহত শতাধিক,রেল মন্ত্রীর শোক প্রকাশ

ভৈরবে ট্রেন দুর্ঘটনা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুর্ঘটনার ১৫ ঘণ্টা পর দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের উদ্ধার কাজ শেষ হয়েছে। ২৪ অক্টোবর মঙ্গলবার ভোর ৪টা ২০মিনিটে বগি দুটি লাইন থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। ট্রেন চলাচলের জন্য লাইন পুরোপুরি প্রস্তুত হয় সকাল সাড়ে ছয়টায়। এরপর থেকে ডাউন এবং আপ উভয় লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
এতে করে উভয় পাশে আটকা পড়া ট্রেনগুলো ধীরে ধীরে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যেতে শুরু করে। তবে ট্রেন চলাচল এবং শিডিউল (সময়সূচি) সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে এক দিনের অধিক সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার মো. ইউসুফ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে দুর্ঘটনাকবলিত লাইনে বর্তমানে ১০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এই গতিতে ট্রেন চালানো হবে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সন্ধ্যার পর থেকে আখাউড়া থেকে আসা উদ্ধারকারী ট্রেন উদ্ধার কাজ শুরু করে। দুটি বগি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেকটা আলাদা করে করে সরানো যায়। উদ্ধারের প্রথম পর্যায়ে মালবাহী ট্রেনটিকে স্টেশনে সরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। ট্রেনটি দুর্ঘটনাকবলিত স্থান থেকে সরানো হয় সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে। ৭টা ৫৫ মিনিটে এগারসিন্ধুর ট্রেনের তিন বগি রেখে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। মানুষের আশঙ্কা ছিল বগির নিচ অনেকে আটকা পড়ে মারা যেতে পারেন। তবে দুটি বগির নিচ থেকে আর কারও মৃতদেহ পাওয়া যায়নি। ফলে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৮ জন।
২৩ অক্টোবর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম প্রান্তে এগারসিন্দুর ট্রেনটির পেছনের তিনটি কোচে মালবাহী একটি ট্রেন ধাক্কা দেয়। এতে যাত্রীবাহী ট্রেনের পেছনের দুটি কোচ উল্টে গিয়ে ১৮ জন নিহত ও শতাধিক আহত হন। দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-কিশোরগঞ্জ—তিন পথে সাড়ে সাত ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।
★সাড়ে ২০ ঘণ্টা পর রেলমন্ত্রীর শোক প্রকাশ:-
কিশোরগঞ্জের ভৈরব জংশনের আউটার পয়েন্ট জগন্নাথপুর রেল ক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী এগারসিন্দুর গোধূলী এক্সপ্রেস ও মালবাহী ট্রেনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের প্রায় সাড়ে ২০ ঘণ্টা পর শোক জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন।
মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) সংবাদ মাধ্যমে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার সিরাজ উদ-দৌলা খানের পাঠানো এক বার্তয় রেলমন্ত্রী এ শোক জানান।
শোক বার্তায় বলা হয়েছে, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় হতাহতের সংবাদে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। অনাকাঙ্ক্ষিত ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি। এছাড়া তিনি শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
হতাহতদের আর্থিক সহযোগিতার কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, অপ্রত্যাশিত এ দুর্ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতাসহ আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে দুর্ঘটনার যথাযথ কারণ উদঘাটনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছেন, অফিসিয়াল কাজে রেলপথ মন্ত্রী গত ২২ অক্টোবর মালয়েশিয়া গিয়েছেন। আগামী ২৭ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

রাজশাহীতে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ শীর্ষক আলোচনা সভা

ভৈরবে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১৮, আহত শতাধিক,রেল মন্ত্রীর শোক প্রকাশ

আপডেট সময় ০২:২২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৩
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুর্ঘটনার ১৫ ঘণ্টা পর দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের উদ্ধার কাজ শেষ হয়েছে। ২৪ অক্টোবর মঙ্গলবার ভোর ৪টা ২০মিনিটে বগি দুটি লাইন থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। ট্রেন চলাচলের জন্য লাইন পুরোপুরি প্রস্তুত হয় সকাল সাড়ে ছয়টায়। এরপর থেকে ডাউন এবং আপ উভয় লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
এতে করে উভয় পাশে আটকা পড়া ট্রেনগুলো ধীরে ধীরে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যেতে শুরু করে। তবে ট্রেন চলাচল এবং শিডিউল (সময়সূচি) সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে এক দিনের অধিক সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার মো. ইউসুফ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে দুর্ঘটনাকবলিত লাইনে বর্তমানে ১০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এই গতিতে ট্রেন চালানো হবে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সন্ধ্যার পর থেকে আখাউড়া থেকে আসা উদ্ধারকারী ট্রেন উদ্ধার কাজ শুরু করে। দুটি বগি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেকটা আলাদা করে করে সরানো যায়। উদ্ধারের প্রথম পর্যায়ে মালবাহী ট্রেনটিকে স্টেশনে সরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। ট্রেনটি দুর্ঘটনাকবলিত স্থান থেকে সরানো হয় সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে। ৭টা ৫৫ মিনিটে এগারসিন্ধুর ট্রেনের তিন বগি রেখে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। মানুষের আশঙ্কা ছিল বগির নিচ অনেকে আটকা পড়ে মারা যেতে পারেন। তবে দুটি বগির নিচ থেকে আর কারও মৃতদেহ পাওয়া যায়নি। ফলে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৮ জন।
২৩ অক্টোবর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম প্রান্তে এগারসিন্দুর ট্রেনটির পেছনের তিনটি কোচে মালবাহী একটি ট্রেন ধাক্কা দেয়। এতে যাত্রীবাহী ট্রেনের পেছনের দুটি কোচ উল্টে গিয়ে ১৮ জন নিহত ও শতাধিক আহত হন। দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-কিশোরগঞ্জ—তিন পথে সাড়ে সাত ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।
★সাড়ে ২০ ঘণ্টা পর রেলমন্ত্রীর শোক প্রকাশ:-
কিশোরগঞ্জের ভৈরব জংশনের আউটার পয়েন্ট জগন্নাথপুর রেল ক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী এগারসিন্দুর গোধূলী এক্সপ্রেস ও মালবাহী ট্রেনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের প্রায় সাড়ে ২০ ঘণ্টা পর শোক জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন।
মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) সংবাদ মাধ্যমে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার সিরাজ উদ-দৌলা খানের পাঠানো এক বার্তয় রেলমন্ত্রী এ শোক জানান।
শোক বার্তায় বলা হয়েছে, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় হতাহতের সংবাদে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। অনাকাঙ্ক্ষিত ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি। এছাড়া তিনি শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
হতাহতদের আর্থিক সহযোগিতার কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, অপ্রত্যাশিত এ দুর্ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতাসহ আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে দুর্ঘটনার যথাযথ কারণ উদঘাটনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছেন, অফিসিয়াল কাজে রেলপথ মন্ত্রী গত ২২ অক্টোবর মালয়েশিয়া গিয়েছেন। আগামী ২৭ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।